বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ডলার তহবিল সরবরাহ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ও তদারকি কর্মকর্তারা। বিষয়টি আর্থিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কিছুটা সন্দেহ তৈরি করেছে। তবে রয়টার্সকে জানানো সূত্রগুলো মনে করে, ফেড তার তহবিল সহায়তা প্রত্যাখ্যান করবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো দেয়নি। খবর রয়টার্স।
সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এ সম্ভাবনা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন, যা রয়টার্স প্রথমবারের মতো প্রকাশ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির কারণে মার্কিন সরকারের প্রতি তাদের আস্থা কমে যাওয়ায় এমন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থান সমর্থন করা, ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা এবং মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের মতো কিছু নীতি গ্রহণ করেছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু ইউরোপীয় ফোরামে মার্কিন প্রশাসন যদি ফেডকে ডলার সরবরাহ বন্ধ করতে চাপ দেয়, তাহলে তার প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। যদিও বাস্তবে ফেডের মতো নির্ভরযোগ্য সমাধান পাওয়া কঠিন।
তবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) ও ফেড এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউজও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফেড কংগ্রেসের কাছে দায়বদ্ধ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং এখন পর্যন্ত কখনই আর্থিক সহায়তা বন্ধের ইঙ্গিত দেয়নি। তবু ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ফেডের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
পাঁচজন সিনিয়র ইউরোজোন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মিত নীতিনির্ধারক সভাগুলোর বাইরে অনুষ্ঠিত এ অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ফেড বা ইসিবি নেতৃত্বের কোনো ইঙ্গিতে পরিচালনা করা হয়নি।
অন্য একজন জানিয়েছেন, ইউরোপ ফেডের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারে কিনা, সে প্রশ্নটিও শিগগিরই আরো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় এ আলোচনাগুলো সামনে আসছে।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক শুনানিতে ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ফেডের সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
২০২৩ সালে ফেড সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কয়েক বিলিয়ন ডলার সরবরাহ দিয়েছিল, যা আর্থিক ব্যবস্থাকে ধসে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করেছিল। যদিও ফেডের ডলার সহায়তা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে এটি বিশ্ববাজার ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারত বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
এক সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি ডলার ঋণের কারণে ফেডের সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসিবির সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, ইউরোজোন ব্যাংকগুলোর মোট তহবিলের ১৭ শতাংশ ডলারে হয়, যা ফেডের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা আরো জোরালো করে।